1. admin@dailyprothomsomoy.com : admin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিসহ ৩ জন গ্রেফতার  সাংবাদিক পিনু শিকদারকে নিয়ে ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার, থানায় জিডি নিজাম হাজারীর নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম এখনো প্রকাশ্যে ঘুরছে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরেই, তবে ২৬’র জুনের পর নয়: প্রধান উপদেষ্টা ছাগলনাইয়ার জয়পুর চ্যাম্পিয়ন শীপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীরা কেউ টাকা মেরে চলে যায়নি:প্রধান উপদেষ্টা বিসিবির গঠনতন্ত্রে অসঙ্গতি পেয়েছে দুদক ফেনীতে বিজিবি’র হাতে আটক ভুয়া এনএস আই কর্মকর্তা সাবেক এমপি মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার সারাদেশে সব মসজিদে একই সময়ে জুমার নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মেঘনা আলমের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি: আইন উপদেষ্টা ছাগলনাইয়ায় সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ও ছাত্রজনতার আয়োজনে সেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও ঈদ আড্ডা শেরপুর পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্ত:জেলা চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার চোরাই মাল উদ্ধার  সাংবাদিকেরা সমাজের দর্পণ-বিএনপি নেতা আব্দুল মোমিন নাশকতা মামলায় সদ্য ক্ষমতাচ্যুত চেয়ারম্যান আব্দুল মোমিন গ্রেফতার  শেরপুরে নির্বাচনী হামলা ও বিস্ফোরণের মামলায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার শেরপুরে সরকারি সড়ক দখল করে দোকান ভোগান্তিতে পথচারীরা শেরপুরে লক্ষাধিক টাকার সরকারি গাছ কেটে নিয়েছে প্রভাবশালী গোলাপ  শেরপুরে দুর পাল্লার বাসে তল্লাশি, ১৩০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার দুইজন পরশুরামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি

আত্মরক্ষা ও সতর্কতার গুরুত্ব / দৈনিক প্রথম সময়

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কারও ওপর অন্যায়, অবিচার, আক্রমণ ও জুলুমকে ইসলাম হারাম করেছে। কারণ, ইসলাম ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ইসলাম আত্মরক্ষার অধিকারও দিয়েছে। নিজের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মরক্ষা করার অনুমতি রয়েছে। বরং ক্ষেত্রবিশেষে তাতে উৎসাহিত করা হয়েছে। নারী, শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধীরা কোনো অন্যায় ও আক্রমণের শিকার হলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তি প্রয়োগের অনুমোদন ইসলামি দন্ডবিধিতে রয়েছে।

 

অধিকার

ইসলাম আত্মরক্ষাকে মানুষের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করেছে, তোমরা তার ওপর আক্রমণ করো, যেরূপ সে তোমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৪) অন্য আয়াতে ধ্বংস ও ক্ষতির হাত থেকে আত্মরক্ষার তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে ফেল না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তবে অত্যাচারিত হওয়ার পর যারা প্রতিবিধান করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ৪১)

আত্মরক্ষার প্রস্তুতি

ইসলাম শরীরচর্চা ও আত্মরক্ষামূলক খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করেছে। মুমিনকে এতটুকু শারীরিক সামর্থ্য অর্জন করতে বলেছে, যেন নিজের ও দেশের প্রয়োজনে আত্মরক্ষা গড়ে তুলতে পারে। অক্ষম ও অসমর্থ হয়ে থাকা ইসলামে নিন্দনীয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে দুর্বল ইমানদারের চেয়ে শক্তিশালী ইমানদার বেশি পছন্দনীয়। যদিও উভয় প্রকার ইমানদারের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। তুমি তোমার কল্যাণকর বিষয়াদির প্রতি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর সাহায্য চাও, অক্ষম হয়ো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৬৪)

সতর্কতা

ইসলাম মানুষকে আত্মরক্ষার অধিকার দিয়েছে। আত্মরক্ষার মতো প্রস্তুতিও নিতে বলেছে। তবে তার আগে বলেছে, সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে। যেন কোনো ধরনের বিপদে পড়তে না হয় এবং পড়লেও তা থেকে সহজে উদ্ধার পাওয়া যায়। ইসলামের ইতিহাসে সতর্কতা অবলম্বনের এমন অনেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। যেমন : জোবায়ের ইবনুল আউয়াম (রা.) বলেন, ‘ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসুল (সা.) দুটি বর্ম পরিহিত ছিলেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৯২)

আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আসার পর আকাক্সক্ষা পোষণ করলেন যে যদি তার কোনো সাথী তাকে পাহারা দিতেন। তখন আমরা অস্ত্রের আওয়াজ শুনলাম। রাসুল (সা.) বললেন, ‘কে? বলা হলো, আমি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আপনাকে পাহারা দেওয়ার জন্য এসেছি। অতঃপর রাসুল (সা.) ঘুমালেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৮৫)

এ ছাড়া ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নামাজরত অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণে শহীদ হওয়ার পর উসমান (রা.) মসজিদে স্বতন্ত্র মেহরাব বানিয়ে সেখানে নামাজে দাঁড়াতেন। এমনিভাবে আলী (রা.) শহীদ হওয়ার পর মুয়াবিয়া (রা.) মসজিদে স্বতন্ত্র মেহরাবে রক্ষীর পাহারায় নামাজে দাঁড়াতেন। (ওয়াফাউল ওয়াফা : ২/৮৮; তারিখে তাবারি : ৫/১৪৯)

 

জীবন ও সম্পদ রক্ষা

সাঈদ ইবনে জায়েদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষায় খুন হবে সে শহীদ, যে ব্যক্তি দ্বীন রক্ষায় খুন হবে সে শহীদ, যে ব্যক্তি নিজের জীবন রক্ষায় খুন হবে সে শহীদ, যে ব্যক্তি নিজ পরিবারের প্রাণ অথবা ইজ্জত রক্ষায় খুন হবে সে শহীদ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৮০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৪২১)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে আরজ করলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এসে আমার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চায়? রাসুল (সা.) বললেন, তোমার সম্পদ তুমি দেবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়? রাসুল (সা.) বললেন, তার সঙ্গে তুমি মোকাবিলা করো। লোকটি বলল, যদি সে এতে আমাকে হত্যা করে? রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি শহীদ। লোকটি বলল, যদি আমি তাকে হত্যা করি? রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে সে জাহান্নামি হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৫)

পাল্টা আক্রমণ

ইয়ালা (রা.) বলেন, আমার একজন কর্মচারী ছিল। সে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে একে অন্যের হাতে কামড় দেয়। এতে অপরজন কামড় থেকে তার হাত ছাড়াতে টান দিলে ওই ব্যক্তির একটি দাঁত পড়ে যায়। বিচার নিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে এলে রাসুল (সা.) তার দাঁতের ক্ষতিপূরণ দেওয়া লাগবে না মর্মে বিচার করেন এবং বললেন, সে কি তার হাত তোমার মুখে এমনভাবে চাবানোর জন্য রেখে দেবে যেভাবে মানুষ (খাদ্য) চাবায়? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৭৪)

সম্ভ্রম রক্ষা

ধর্ষক কোনো নারীর ওপর চড়াও হলে যদি নারী সম্ভ্রম রক্ষায় তার ওপর আক্রমণ করে এবং এতে ধর্ষক খুন হয়, তবে ইসলামি দ-বিধিতে এই খুন দায়হীন। এই খুনের জন্য নারী শাস্তির মুখোমুখি হবে না। উবাইদ ইবনে উমায়ের (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তির ঘরে একজন মেহমান এলো। ফলে তারা জনৈক বাঁদিকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে পাঠাল। বাঁদিকে মেহমানের পছন্দ হলে তার পেছনে লাগল এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চাইল। বাঁদি তাকে বাধা দিল। সে তার সঙ্গে কিছুক্ষণ মোকাবিলা করল। অতঃপর বাঁদি দৌড়ে পালাল এবং পাথর ছুড়ে মারল। এতে তার কলিজা বিদীর্ণ হলো। ঘরে এসে সবাইকে ঘটনা জানাল। তারা ওমর (রা.)-এর কাছে ঘটনার বৃত্তান্ত জানাল।

ওমর (রা.) সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ফায়সালা দিলেন, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিহত হয়েছে, তার কোনো রক্তপণ দেওয়া লাগবে না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৭৯১৯, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৭৯৪)

সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহ.) থেকে বর্ণিত, শামের জনৈক মহিলা জাহহাক ইবনে কাইস (রা.)-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করল, জনৈক ব্যক্তি তার ঘরে করাঘাত করল। নারী তার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সাহায্য চাইল। শীতের রাতে কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে এলো না। ফলে সে দরজা খুলে একটি পাথর নিয়ে তার ওপর নিক্ষেপ করলে লোকটি মারা যায়। জাহহাক ইবনে কাইস (রা.) সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করে জানতে পারলেন, লোকটি একজন চোর, তার সঙ্গে চুরির সামগ্রীও রয়েছে। ফলে তিনি তার রক্তপণ বাতিল করলেন।’ ( ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৭৭৯৫)

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD