করোনাভাইরাসের কারণে ২৬ মার্চ থেকে এফডিসিতে শ্যুটিং বন্ধ ছিল। ঈদুল আজহার পর ১০ আগস্ট থেকে আবার সীমিত পরিসরে শ্যুটিং শুরু হয়। কয়েকটি সিনেমার শ্যুটিং চলছে এখন। সিনে জগতের নামি তারকারাও ধীরে ধীরে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। কাজ শুরু হলেও আতঙ্ক কমেনি সিনেপাড়ায়। আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছেন পরিচালক ও কলাকুশলীরা।
সিনেমার শ্যুটিং হলেও সিনেমা দেখানো হবে কোথায়? সিনেমা আদৌ চলবে কি না- এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রযোজকদের মাথায়। করোনা-পরবর্তী সিনে ইন্ডাস্ট্রি কি আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি করোনা শেষ পেরেক মেরে গেছে কফিনে? যদি ঘুরে দাঁড়ায় তাহলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে ইন্ডাস্ট্রি? এমনই কিছু প্রশ্ন নিয়ে দেশ রূপান্তর মুখোমুখি হয়েছিল প্রযোজক ও পরিচালকদের।
নতুন কয়েকটি সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন পরিচালক সৈকত নাসির। এ বিষয়ে তিনি বলছিলেন, ‘করোনা কবে শেষ হবে জানি না। ভ্যাকসিন কবে আসবে তারও ঠিক নেই। কিন্তু আমাদের তো বাঁচতে হবে। তাই কাজ শুরু করে দিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি। আমি আশাবাদী। আমি এখন নতুন ধরনের কনটেন্ট বানানোর চেষ্টা করছি। যে ধরনের কনটেন্ট সিনেমা হল এবং ওয়েব প্ল্যাটফরম দুটিতেই চলবে। আমার মতো অনেকেই ভিন্নধর্মী সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছে। ফলে আশা করি ইন্ডাস্ট্রি শিগগরিই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
এ মাসের শেষে অনুদানের চলচ্চিত্র ‘আশীর্বাদে’র কাজ শুরু হবে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘করোনার কারণে প্রযোজক, পরিচালক ও কলাকুশলীদের মনে নতুন বোধের জন্ম হয়েছে। মানুষ নতুন কিছু ভাববার চেষ্টা করছে। ওটিটি প্ল্যাটফরমগুলোও বাজারে আসছে। ওদিকে সরকারও সিনে ইন্ডাস্ট্রিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে আমি মনে করি করোনা সিনে ইন্ডাস্ট্রির জন্য আশীর্বাদ হয়েই হাজির হচ্ছে। যদিও সাময়িক কিছুদিন সবাইকে কষ্ট বরণ করে নিতে হচ্ছে। এ কষ্টের ফলে মঙ্গলজনক কিছু যদি হয় সেটাই তো ভালো।’
প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘করোনার কারণে সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। এখন আবারও শ্যুটিং শুরু করেছেন কেউ কেউ। আসলে বসে থাকা কারোরই পক্ষে সম্ভব নয়। সমস্যা থাকবে, কিন্তু সমস্যার ভেতর দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা বেশকিছু দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছি। সরকার সেসব দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছে। আশার কথা যে সরকার করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা যখন কথা বলি তিনি তখন আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করার কথা বলেছেন। অঙ্কটা কমও হতে পারে, বেশিও হতে পারে। সে যাই হোক না কেন, এ তহবিল থেকে হলমালিকরা উপকৃত হবেন। আমি মনে করি হলমালিকরা বাঁচলে প্রযোজকরা বাঁচবেন। প্রযোজকরা বাঁচলে ইন্ডাস্ট্রির সবাই বাঁচবে। আর করোনা-পরবর্তী কনটেন্ট কী রকম হবে তা মূলত দর্শকের চাহিদার ওপরই নির্ভর করবে। দর্শক যদি সাামাজিক পারিবারিক গল্প পছন্দ করে তাহলে পরিচালকরা সে ধরনের কনটেন্টই নির্মাণ করবেন। তবে সবার আগে হলের সংস্কার জরুরি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হল সংস্কার হলে এফডিসিসহ পুরো ইন্ডাস্ট্রির চেহারাই বদলে যাবে।’
পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘করোনার কারণে সিনে ইন্ডাস্ট্রির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে শিগগিরই সিনে ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়াবে। হল সংস্কারের জন্য সরকার ঋণ দিচ্ছে, সরকারের এই এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানাই। করোনার ফলে এফডিসিকেন্দ্রিক সিনেমার কনটেন্টও বদলে যাবে। ইতিমধ্যেই যেসব সিনেমা নির্মাণের খবর আমি পেয়েছি সেগুলোর কনটেন্ট ভিন্নধর্মী। নকল গল্প থেকে বেরিয়ে আসছেন পরিচালকরা। আমাদের নিজস্ব প্রচুর গল্প আছে, এসব গল্পে চলচ্চিত্র নির্মিত হলে দর্শক চলচ্চিত্রে নিজেদের খুঁজে পাবে। আর এসব কনটেন্টই ইন্ডাস্ট্রিকে বদলে দেবে। ফলে আমি আশা করছি শিগগিরই চলচ্চিত্রশিল্প ক্ষতি পুষিয়ে আবার সরব হয়ে উঠবে।’